বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্লাস্টিক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতিগুলি কী?

ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যাবে, ভারতে প্লাস্টিকের ব্যবহার জোরালোভাবে শুরু হয়েছিল ১৯৫৭-এর কাছাকাছি সময়। তবে ভারতের জীবনযাত্রার সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জুড়ে যেতে সময় লেগেছিল আরও ৩০ বছর।

১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান পেট্রো-কেমিক্যালস-এর হাত ধরে ‘প্লাস্টিকের বাজার’ তৈরি হয়। আর ১৯৯৪ সালেই প্লাস্টিকের সফট্ ড্রিংকের বোতলগুলি পরিবেশে বিরক্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সময় বদলে গিয়েছে। বর্তমানে প্লাস্টিকের ব্যবহার আমাদের ঠিকমতো না করার কারণে, এটি একটি গুরুতর সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান অবস্থা:

অনুমান করা হয় যে, ব্যবহারের পরে অল্প সময়ের মধ্যেই প্লাস্টিক প্যাকেজিং প্রোডাক্টের ৭০ শতাংশই প্লাস্টিক বর্জ্যে পরিণত হয়। আমাদের দেশে প্রতি বছর ৯৪ লক্ষ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই  পুনর্ব্যবহার করা যায়। যার বেশিরভাগটাই হয় অস‌ংগঠিত ক্ষেত্র দ্বারা। পাশাপাশি বিশ্বের গড় হারের তুলনায় ভারতের পুনর্ব্যবহার হার ২০% বেশি হলেও ৯৪০০ টন প্লাস্টিকের ঠাঁই হয় সেই জমিতে কিংবা ভূগর্ভস্থ জলের সঙ্গে মিশে।

এই ৬০ শতাংশ প্লাস্টিকের মধ্যে —

৭০ শতাংশের পুনর্ব্যবহার করার জন্য নিবন্ধিত সুবিধা রয়েছে

২০ শতাংশের পুনর্ব্যবহার হয় অসংগঠিত ক্ষেত্র দ্বারা

১০ শতাংশ  পুনরায় ব্যবহার করাহয় বাড়িতেই

২০১৭ সালে ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্য়ান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FCCI) কর্তৃক প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকার তুলনায় ভারতের মাথাপিছু ব্যবহার ১১ কিলোগ্রাম (২৪ পাউন্ড), যেখানে বিশ্বের এর সর্বোচ্চ পরিমাণ ১০৯ কিলোগ্রাম।

প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের পরিবেশের এমনভাবে ক্ষতি করছে যে তা একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে।

সহজাতভাবে প্লাস্টিক খারাপ নয়। অনেক মানুষ ভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য পদার্থ এবং শক্তির অপচয় করে — এমনটাও কিন্তু সত্যি নয়! প্লাস্টিকের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কম এবং এটি শক্তির খরচ বাঁচায়। আমাদের ভুল- ত্রুটির কারণেই প্লাস্টিক পরিবেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close