বাজেট : বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, চা-শ্রমিকদের স্থায়ী বাসস্থান

বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, চা-শ্রমিকদের স্থায়ী বাসস্থান, ভোটের আগের বছর বাজেটে দরাজ রাজ্য সরকার

কলকাতা: কিছুটা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পথেই হাঁটল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার ঘোষণা করা হল। সেই সঙ্গে চা-শ্রমিকদের স্থায়ী বাসস্থানেরও আশ্বাস দেওয়া হল। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগের বছর দরাজ রাজ্য সরকার।  

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে জিডিপির হার গত ৮ বছরে সর্বনিম্ন। রাজ্যের জিডিপি হার ১০.৪ শতাংশে এসেছে।মা মাটি মানুষের সরকারের জমানায় কৃষি উৎপাদন ৯ শতাংশ বৃদ্ধি। সামাজিক ক্ষেত্রেও সাড়ে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অর্থমন্ত্রীর দাবি। এরই মধ্যে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান দখলের শিরোপা মিলেছে দিল্লি । এবারের রাজ্য বাজেটে চা বাগানগুলিকে কৃষি আয়কর সম্পূর্ণ মুকুব করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের টাকায় চা বাগানের শ্রমিকদের জন্যে নতুন বাড়ি। চা-বাগানের গৃহহীন শ্রমিকদের জন্য চা-সুন্দরী নামে এই গৃহনির্মাণ প্রকল্পে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে।পারিবারিক জমি একত্রিত করার ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি ৪.৫% থেকে কমিয়ে ০.৫% করার প্রস্তাব।কৃষি আয়কর সম্পূর্ণ ছাড়ের প্রস্তাব করা হচ্ছে

পাঁচ বছর আগে দিল্লির মসনদে বসেই বিদ্যুতের মাশুল কমিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সাম্প্রতিক ভোটের আগে তিনি ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের ব্যবহার নিঃশুল্ক ঘোষণা করেন। ২০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুত্‍‌ ব্যবহারে সরকার ৫০% মাশুল নেবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি। ২০২১-এর ভোটের আগে সেই পথে হাঁটলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও .

সোমবার রাজ্য বাজেট পেশের সময় গরিব মানুষদের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুত্‍ দেওয়ার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। তিনি বলেন, “দরিদ্রসীমার নীচে থাকা যাঁদের ত্রৈমাসিক বিদ্যুতের খরচ ৭৫ ইউনিটের মধ্যে, তাঁদের বিদ্যুত্‍‌ চার্জ সম্পূর্ণ মকুব করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। ১৩ লক্ষ মানুষ এর ফলে উপকার পাবেন।” এই প্রকল্পটিকে ‘হাসির আলো’ নাম দেওয়া হয়েছে।

শুধু বিদ্যুত্‍‌ নয়, অমিতের বাজেটের আর এক চমক ছিল চা শ্রমিকদের জন্য। রাজ্যজুড়ে প্রায় তিন লক্ষাধিক চা-শ্রমিককে স্থায়ী বাসস্থান দিতে ‘চা-সুন্দরী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। ‌অর্থমন্ত্রীর কথায়, “রাজ্যে প্রায় ৩৭০টি চা বাগান আছে। সেখানে তিন লক্ষাধিক চা-শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ শতাংশই মহিলা। এই চা-শ্রমিকদের বেশিরভাগই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। আগামী তিন বছর রাজ্য সরকার চা-বাগানে স্থায়ীভাবে কর্মরত গৃহহীন শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থা করবে।”

‘চা-সুন্দরী’ নামক এই প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থবর্ষে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা প্রস্তাব করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close