নাগরিক পঞ্জি থেকে হিন্দুরা বাদ কেন?

অসমে নাগরিক পঞ্জির (NRC) চূড়ান্ত তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক হিন্দুর বাদ পড়া প্রসঙ্গে বিজেপির (BJP) ব্যাখ্যা জানতে চাইল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। বিজেপির রাজ্য সভাপতি অমিত শাহর বঙ্গ সফরের আগেই এই প্রসঙ্গে গেরুয়া শিবিরের যুক্তি জানতে চাইল রাজ্যের শাসক দল। আগামী ১ অক্টোবর রাজ্যে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্গাপুজোর উদ্বোধন ছাড়াও নাগরিক পঞ্জি ও নাগরিকত্ব সংশোধন বিল সম্পর্কে একটি সেমি‌নারেও যোগ দেবেন তিনি। অমিত শাহ বারবার বলেছেন দেশজুড়ে নাগরিক পঞ্জি করা হবে। গত ৩১ আগস্ট অসমের নাগরিক পঞ্জি থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লক্ষেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে ১২ লক্ষ হিন্দু।

তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিযোগ জানিয়েছেন, ‘‘নিজেদের হিন্দুর রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করার আগে বিজেপির প্রথমে বোঝানো উচিত কেন অসমের নাগরিক পঞ্জির তালিকা থেকে এত বিপুল সংখ্যক হিন্দুর নাম বাদ দেওয়া হল?”

তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপি বলেছে নাগরিক পঞ্জি করার উদ্দেশ্য অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো। তাহলে যে হিন্দুদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ল তারা অনুপ্রবেশকারী?”

অসমের নাগরিক পঞ্জি থেকে বিপুল সংখ্যক হিন্দুর নাম বাদ পড়ায় এই রাজ্যে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। এখনও পর্যন্ত ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্যের তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ‘‘বাংলায় এতগুলি নিরীহ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী বিজেপি। যারা টিকে রয়েছে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ রচনা করে তারা এবার হিন্দু ও বাঙালিদের টার্গেট করেছে।”

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘‘তৃণমূল নাগরিক পঞ্জির বিরোধিতা করছে বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে, যারা তাদের ভোট ব্যাঙ্ক। কিন্তু অসমের নাগরিক পঞ্জি থেকে এত সংখ্যক হিন্দুর নাম বাদ যাওয়ার পর তারা আমাদের হিন্দু-বিরোধী এবং শরণার্থী-বিরোধী দল বলে দাগিয়ে দিতে চাইছে। এর ফলে রাজ্যে আমাদের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা আশাবাদী অমিত শাহ নাগরিক পঞ্জি সংক্রান্ত সমস্ত ভয় ও ভুল ধারণাকে প্রশমিত করতে পারবেন।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘‘রাজ্যে এনআরসির জন্য যাঁদের মৃত্যু হয়েছে সেজন্য দায়ী কেবল তৃণমূল কংগ্রেস। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, যে হিন্দুরা অন্য দেশ থেকে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের অধীনে। এবং তারপর ‌নাগরিক পঞ্জি তৈরি হবে অনুপ্রবেশকারীদের দূর করার জন্য।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close