রবীন্দ্রভবনে স্টেট লেভেল ফার্মার মিট এবং ভুট্টা ও চাল-এর উপর এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়

এইবার দেশের বাজেটে কৃষির উন্নয়নের জন্য ২ দশমিক ৮৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের আগে মোদী সরকার আসার আগে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ২৭ হাজার কোটি টাকা। সরাসরি কৃষকদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক ৫০ লক্ষ কোটি টাকা। এ থেকেই স্পষ্ট বর্তমান দেশের সরকার কৃষকদের জন্য কি ধরনের চিন্তা করছে। অনেক কৃষক রয়েছে যাদের জমি রয়েছে কিন্তু সেই জমিতে সেচের অভাবে  চাষ করা যায় না। সেই জমিতে সেচের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য এইবারের বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। যেই জমিতে চাষ করা যায় না সেই জমিতে সোলার প্ল্যান্ট বসিয়ে কৃষকদের রোজগার দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কৃষক শক্তিশালী হলে গ্রাম শক্তিশালী হবে, কৃষক শক্তিশালী হলে ভারত শক্তিশালী হবে। কৃষি হচ্ছে শিল্প। বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রভবনে স্টেট লেভেল ফার্মার মিট এবং ভুট্টা ও চাল-এর উপর আয়োজিত কর্মশালায় আলোচনা করতে গিয়ে এই কথা বলেন সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক। অনুষ্ঠানে সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক ছাড়াও আলোচনা করেন কৃষি মন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায়। কৃষি মন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায় আলোচনা করতে গিয়ে বলেন কৃষকদের বক্তব্য থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট রাজ্যে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠার পর শস্য উতপাদনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা গ্রহণ করা হয়েছে। যার জমি রয়েছে সে প্রকৃত কৃষক। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প অনুযায়ী সেই কৃষককে সহযোগিতা করা রাজ্য সরকারের কর্তব্য। সকল কৃষকদের কৃষি ব্যবস্থার স্থানে যুক্ত করা না গেলে রাজ্যের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষকদের খরচ কমানোর জন্য বর্তমানে দপ্তর থেকে অত্যাধুনিক মেশিন প্রদান করা হচ্ছে কৃষকদের। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল যেন ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় করতে পারে, তাঁর জন্য সরকারী ভাবে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রয় করতে পাড়ায় বর্তমানে কৃষকদের মধ্যে উৎসবের মেজাজ পরিলক্ষিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকে নেওয়া প্রয়োজন সেগুলি আগে দেখতে হবে বলেও জানান মন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায়। তিনি বলেন যে সকল কৃষি জমি সেচের অভাবে পড়ে রয়েছে, সেগুলিকেও কৃষির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সার্ভে করে দেখা গেছে কৃষি জমির পরিমাণ ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। খাদ্য শস্য উতপাদনের ক্ষেত্রে রাজ্য কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর খাদ্য শস্য উতপাদনের ক্ষেত্রে রাজ্য কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। রাজ্যের চাষিদের অন্যান্য রাজ্যের চাষিদের সাথে তুলনা করলে চলবে না। কারন রাজ্যের চাষিদের মাথা পিছু জমির পরিমাণ কম। যে সকল জনজাতি ভাই-বোনরা জুম চাষের সাথে যুক্ত তাদেরকে জুম চাষের পাশাপাশি ভুট্টা চাষে আগ্রহি হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায়। তিনি বলেন জুম চাষের পরিবর্তে ভুট্টা কিংবা অন্যান্য ফসল চাষ করা হলে জনজাতি ভাই-বোনরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবে। এইদিনের কর্মশালায় সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক, মন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায় সহ কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এইদিনের কর্মশালায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষকরা অংশগ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close