মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আনুষ্ঠানিক ভাবে RS-II-429 রাবার গাছের চারা রাবার চাষিদের হাতে তুলে দেন

রাবার উৎপাদনে বর্তমানে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা। সাধারণত বর্তমানে রাজ্যে যে সকল রাবার গাছ রয়েছে এই গাছ গুলি থেকে ১২ মাস ল্যাটেক্স সংগ্রহ করা যায় না। শীতের মরশুমের শেষে বসন্তের আগমনের সময় গাছের পাতা ঝড়ে যাওয়ার ফলে এই সময় দুই থেকে তিন মাস রাবার গাছ থেকে ল্যাটেক্স সংগ্রহ বন্ধ রাখা হয়। যদি ১২ মাস রাবার গাছ থেকে ল্যাটেক্স সংগ্রহ  করা যেত তাহলে ত্রিপুরা রাজ্য রাবার উৎপাদনে আরও এগিয়ে যেতে পারতো। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে নতুন হাইব্রিড প্রজাতির রাবার গাছের চারা নিয়ে এসেছে রাবার বিজ্ঞানিরা। এই উন্নত হাইব্রিড প্রজাতির রাবার গাছের চারার নাম করন করা হয়েছে RS-II-429 ।  বুধবার মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের হাত ধরেRS-II-429 রাবার গাছের চারা আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দেওয়া হয় রাবার চাষির হাতে। RS-II-429 রাবার গাছ ১২ মাস ল্যাটেক্স দিতে সক্ষম। এতে এক দিকে যেমন রাবার চাষিরা লাভবান হবে তেমনি অন্যদিকে রাজ্য রাবার উৎপাদনে আরও এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনীতিও কিছুটা শক্তিশালী হবে। এইদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান টিঙ্কু রায়, রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। এইদিনের অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন ত্রিপুরার শিল্প এখন কৈশোর কাল। বিশেষত রাবার শিল্পের। এই সময় সহায়তা করতে হবে বিশেষজ্ঞদের। তবেই যৌবনের দিকে এগুবে রাজ্যের শিল্প। ৫ বছর নতুন কিছু করার জন্য মাপকাঠি হতে পারে। নতুন কিছু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর যে মাধ্যম তাঁকে অনুসরণ করতে হবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলকে বিশেষ প্রধান্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর সুফল পাচ্ছে উত্তর পূর্বাঞ্চলবাসী। এভাবে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হবে। ভারতবাসীর উন্নয়ন হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে সর্ব শ্রেষ্ঠ করার প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন এভাবেই পরিপূর্ণ হবে। সরস্বতী ত্রিপুরাতে আসে। প্রয়োজন লক্ষ্মীর। রাবার সিটের গুনগত মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। সেই জন্য তিন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। ত্রিপুরা থেকে  যে সমস্ত সামগ্রী রপ্তানী করা হয় তার মধ্যে সবচাইতে বেশী অর্থ আসে রাবার থেকে। ১৪ শ কোটি টাকা। এটা তিন বছরে কিভাবে তিন গুন করা যায় তার দিশাতে কাজ করছে সরকার। গুনগত রাবার সিট করতে কাজ করছে সরকার। চিটাগাং বন্দর খুলে যাওয়ায় এই ক্ষেত্রে বাড়তি সহায়তা পাবে সরকার। আগামী মে- জুন মাসে চিটাগাং বন্দর ব্যবহার শুরু হয়ে যাবে। এপ্রিল মাসের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে ফেনী নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ে সেই কাজ সম্পন্ন হবে। এতে করে রাবার শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং রাবার চাষের সঙ্গে যুক্তদের আর্থিক বিকাশ হবে। ভারতের ভবিস্যৎ এর কথা চিন্তা করে জি এস টি লাগু করেছে প্রধানমন্ত্রী। এর সুফল সমগ্র দেশবাসী পাবে। জি এস টি সংগ্রহ সমগ্র দেশের রয়েছে ৫ শতাংশ। ত্রিপুরায় জি এস টি সংগ্রহ হয় সাড়ে সাত শতাংশ। এটাকে ১৪ শতাংশ করতে হবে। অন্য দিকে পার কেপিটা ইনকাম নেট ত্রিপুরায় আগে ছিল ৯৯ হাজার। এখন তা হয়েছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার। এতে স্পষ্ট রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।RS-II-429 রাবার গাছের চারা রাবার চাষিরা পাওয়ার ফলে রাবার চাষিরা লাভবান হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে রাজ্যের ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার আইনের গ্যাঁড়াকলে পরে বর্তমানে বহু রাবার চাষি দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে। পূর্বতন সরকারের সময় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় খাস জমিতে বহু রাবার চাষি রাবার বাগান করেছে স্ব-নির্ভর হওয়ার আসায়। তখন যদিও তৎকালীন সরকার কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু পরবর্তী সময় প্রশাসন থেকে এই সকল রাবার চাষিদের নোটিস প্রদান করা হয় কিছু কিছু জায়গায়। এই খাস ভূমি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হলে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়বে। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজ্যের অর্থনীতি। তাই অভিজ্ঞ মহলের মতে এই সকল খাস ভূমি থেকে রাবার চাষিদের উচ্চেদ না করে সরকার যদি তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে রাজস্ব আদায় করে, তাহলে রাজ্য সরকারের কোষাগারে যেমন অর্থ আসবে, তেমনি এই সকল রাবার চাষিরা সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করতে পারবে, এমনকি রাজ্যের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close