করোনা প্রতিরোধে নির্দেশনা মেনে চলার আহবান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর

     

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বর্তমান পরিস্থিতিকেও যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেছেন, “করোনাভাইরাস মোকাবেলাও একটা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আপনার দায়িত্ব ঘরে থাকা। আমরা সকলের প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হব।”

বৈশ্বিক মহামারী রূপ পাওয়া কভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ লকডাউন ঘোষণার পর বাংলাদেশও এক থেকে অন্যের মধ্যে সংক্রমণ এড়াতে গণপরিবহণ বন্ধ করেছে, ফলে দেশ হয়ে পড়েছে কার্যত অবরুদ্ধ। এটাই ভাইরাসের বিস্তার রোধে কার্যকর পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “যতদূর সম্ভব ঘরে থাকবেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। মুসলমান ভাইয়েরা ঘরেই নামাজ আদায় করুন এবং অন্যান্য ধর্মের ভাইবোনদেরও ঘরে বসে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

দেশে মহামারী ঠেকাতে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি এই সঙ্কটের সুযোগগ্রহণকারী এবং গুজব রটনাকারীদের হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি বিপর্যস্ত গরিব মানুষের জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণাও দেন।

মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বানও জানান সরকার প্রধান।

তিন মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস সারাবিশ্বে মহামারী রূপ নিয়ে বাংলাদেশেও সংক্রমিত হওয়ার মধ্যে স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন জাতির সামনে ভাষণ নিয়ে আসেন শেখ হাসিনা।

কভিড-১৯ রোগে ইতোমধ্যে বিশ্বে ১৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশে মারা গেছেন পাঁচজন, আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯।

করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঠেকাতে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; এবার স্বাধীনতা দিবসের প্রায় সব অনুষ্ঠানই বাদ দেওয়া হয়েছে।

ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এবারের স্বাধীনতা দিবস এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপিত হচ্ছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত।

“ধনী বা দরিদ্র, উন্নত বা উন্নয়নশীল, ছোট বা বড়- সব দেশই আজ কমবেশি নভেল করোনা নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশও এ সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয়।”

এই পরিস্থিতিতে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষাই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

“এ পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আমরা এবারের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ভিন্নভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জনসমাগম হয়, এমন ধরনের সব অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। এই মুহূর্তে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।”

বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে অতি সংক্রামক এই ব্যাধি বাংলাদেশে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে কী পরিণতি ঘটবে- তা নিয়ে সবার মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ-আতঙ্ক।

জনসমাগমে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে বলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা এসেছিল আগেই।

আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর সোমবার সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব অফিস-আদালতে ছুটি ঘোষণা করে।

এরপর মঙ্গলবার সড়ক, নৌ ও আকাশপথে সব ধরনের যোগাযোগও বন্ধের ঘোষণা এলে ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশও বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মত কার্যত অবরুদ্ধ দশার মধ্যে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close